Don’t Shake your baby ঝাঁকা-ঝাঁকি করবেন না!

আমরা খেলতে গিয়ে, বা আদর করে কিংবা অনেক সময় কান্না থামাতে গিয়ে বাচ্চাকে কোলে নিয়ে কিংবা হাতে নিয়ে একটু উপরে তুলে হালা ঝাঁকিয়ে দেই। মনে করি বাচ্চা এতে মজা পাবে এবং কান্নাও থেমে যাবে। বাচ্চা সাময়িক মজা পায়ও অনেক সময়, অনেক সময় কান্নাও থেমে যায়। কিন্তু বিনিয়মে হয়ে যায় অপূরনীয় ক্ষতি। এই ক্ষতিটা সাথে সাথে বোঝা যায় না অনেক সময়। আর এই জন্য আমাদের সতর্কতাও কম থাকে এই বিষয়ে।

প্রধাণত ২ সময়ে বাচ্চাকে বেশী ঝাঁকুনি দেই আমরা।

১. খেলার চলে: এটা কম বেশি সবাই করে এক-দুইবার। খেলতে গিয়ে ঝাঁকুনি দেয়াটা দেখতে খুবই নিদোর্ষ। দূর থেকে দেখতে অনেক সময় সুন্দরও লাগে। কিন্তু বিষয়টা বাচ্চার জন্য, বাবুর ভবিষ্যতের জন্য মোটেই সুখকর নয়। অনেক সময়তো আমরা উপরে ছুড়ে দিয়ে বাবুকে ক্যাচ ধরি। বাচ্চারাও এতে মজা পায়। আর আমরাও খেলতে থাকি। বাচ্চা খেলার পুতুল নয়। সে একটা ছোট্ট মানুষ। যার সবগুলো অঙ্গ এখনও সঠিকভাবে গঠিত হয়নি।

২. বাচ্চা কান্না করতে থাকলে: এটা মূলত মা-বাবা বেশি করেন। দেখা যায় যেম, বাচ্চার কান্না কোনভাবেই থামছে না। তখন অনেক সময় নিজের উপরে নিয়ন্ত্রণ থাকে না। আমরা এমনিতেই বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বা দুলিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সহ্য করতে না পেরে অনেক সময় ঝাঁকিয়ে দেই। হয়ত দেখিযে বাচ্চা কান্না থামিয়েও ফেলেছে। এটি হয় হুট করে অন্যরকম কিছু হওয়াতে। বাচ্চা ভ্যাবাচেকা খেয়ে যাওয়াতে। বাচ্চা মোটেও খুশি হয়ে কান্না থামায় না তখন।

ক্ষতিকর দিকঃ

• ব্রেইন ড্যামেজ: অবিশ্বাস্য শুনালেও এটাই সত্যি। বাচ্চার মাথা যেমন খুব নরম থাকে, তেমনিভাবে মস্তিষ্কও ঠিকভাবে গঠিত হতে সময় লাগে। ঝাঁকুনি দিলে ব্রেইনের উপরের ও নিচের দিকে ক্ষতি হয়। অনেকগুলো কোষ মারা যায়। আর ব্রেইনে আঘাত পেলে কি হতে পারে তাতো আমরা বুঝতেই পারছি। বাবুর ভবিষ্যতে মাথা ঠিকমত কাজ না করতে পারে। স্মরণশক্তিতে সমস্যা হতে পারে। প্রতিবন্ধী হতে পারে। এবং সবচেয়ে মারাত্মক হচ্ছে বাচ্চা মারাও যেতে পারে।

বাচ্চাকে কোনে নিয়ে হালকা দুলাতে পারেন। কিন্তু ঝাঁকুনি একদম না! ভুলেও না। বাচ্চার কান্নায় বিরক্ত হলে তাকে নিরাপদ কোথাও শুইয়ে দিয়ে নিজে অন্য রুমে চলে যান বা বাইরে চলে যান। ১০-১৫ মিনিট পরে ফিরে আসুন। নিরাপদ বলতে নিশ্চিত করুন যে বাচ্চার মুখে যাতে কোন কাপড় না পড়তে পারে, কিংবা বাচ্চা উল্টে গিয়ে যাতে নি:শ্বাস বন্ধ না হয়ে যায়। কিন্তু নিজের উপরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কখনই ঝাঁকাবেন না। আর খেলার ছলেতো না-ই। অনেক ভাবেই খেলা যায়। কিন্তু ঝাঁকুনি দিয়ে নয়।

অতএব, Say no to Shake! Never Ever shake!

olebabu

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *