শিশুদের কিডনি রোগের লক্ষণঃ কী!

কিডনি বিকলের সমস্যা সাধারণত দুই ধরনের। একিউট বা হঠাৎ কিডনি বিকল এবং ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদে কিডনি বিকল। সাধারণত শিশুদের কিডনি রোগের সমস্যা হলে জ্বর, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা হয়।

শিশুদের কিডনি রোগের লক্ষণের বিষয়ে  কথা বলেছেন ডা. গোলাম মাঈন উদ্দিন। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু কিডনি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : শিশুদের কিডনি সমস্যা হলে কোনটির ক্ষেত্রে কী ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে?

উত্তর : বেশি হলো, বাচ্চাদের প্রস্রাবে ইনফেকশন। ঘন ঘন বাচ্চারা প্রস্রাব করবে। প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হবে। এটি দুই ধরনের আছে। একটি হলো, নিচের দিকে ইনফেকশন। আরেকটি হলো, উপরের দিকে ইনফেকশন। উপরের দিকে ইনফেকশন হলে কিডনির সঙ্গে জড়িত। এতে বমি হবে, পেটে ব্যথা হবে, জ্বর হবে। তবে যেহেতু সে শিশু, তাই বলতে পারে না। তাই রোগ নির্ণয় দেরি হয়। অ্যাপেনডিসাইটিস বা অন্যান্য রোগের সঙ্গে তুলনা করে রোগ নির্ণয় করতে দেরি হয়ে যায়।

তাই কোনো খারাপ রোগী, যদি জ্বর, পেটে ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া বা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া, এ ধরনের লক্ষণ নিয়ে আসে আমরা কিডনির রোগ হয়েছে কি না দেখব। আর কনজেনিটাল অ্যানোমেলি যেটি, সেটি জন্মের আগে নির্ণয় করা প্রয়োজন।

প্রশ্ন : শিশুদের কিডনির সাধারণত কী কী ধরনের রোগ হয়?

উত্তর : বয়স্কদের যেসব রোগ হয়, তার মধ্যে মোটামুটি সবই শিশুদের কিডনিতে হয়। এর মধ্যে ডায়াবেটিস কম থাকে, উচ্চ রক্তচাপের কারণে কিডনি নষ্ট হওয়া কম থাকে। এগুলো ছাড়া মোটামুটি সবই হয়। শিশুদের মধ্যে যেটি বেশি হয় সেটি হলো জন্মগত ও বংশগত কিডনি রোগ। সুচিকিৎসা না হলে বড় হওয়া পর্যন্ত শিশুটি বাঁচবে না। তাই রোগগুলোর নির্ণয় করা, চিকিৎসা করা দরকার। আর কিডনি রোগের চিকিৎসা যেহেতু খুব ব্যয়বহুল, তাই রোগ প্রতিরোধ করা দরকার। সবারই এ সম্পর্কে কিছু না কিছু ধারণা থাকা দরকার।

ntv

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *