বাচ্চা ঠিকমত খেতে চায় না? চলুন কিছু টিপস জেনে নেই

অনেক বাবা মা বাচ্চার খাবার নিয়ে একটা কমন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেন। সেটা হল বাচ্চা খেতে চায়না। খুব কম বাবা মাকেই বলতে শুনেছি তাদের বাচ্চা ঠিকমত খেতে চায়। সারাদিন বাচ্চার পেছনে খাবার নিয়ে দৌড়েও বাচ্চা কে ঠিকমত খাওয়ানো যায়না।

আজকের পোস্ট এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা নিয়ে। কিছুটা হয়ত আপনাদের সাহায্য করবে বাচ্চার মন মর্জি বুঝতে।

বাচ্চাকে যখন খাবার দিবেন বা বাচ্চা যখন খেতে বসবে চেষ্টা করুন পুরো মনোযোগ তাকে দিতে। তার সাথে কথা বলুন। যে খাবার তাকে দিয়েছেন সেটা নিয়েও গল্প করতে পারেন। মোট কথা তার খাবারের সময়টা আনন্দঘন করে তুলুন।

বাচ্চা যখন নিজে নিজে বসতে পারবে চেষ্টা করুন তাকে একটা আলাদা চেয়ারে আলাদা খাবার দিতে। বাচ্চাদের খাওয়ানোর কিছু উচু চেয়ার কিনতে পাওয়া যায়। সেগুলা দেখতে পারেন বা বাসায় তার জন্য খাবারের আলাদা একটা জায়গা বরাদ্দ রাখতে পারেন। এতে সে খাবারের ব্যাপারে তার গুরুত্ব বুঝবে। তবে খেয়াল রাখবেন তার বসার জায়গা টা যেন তার জন্য নিরাপদ হয়।

বাচ্চারা অনেক কৌতূহলী হয়। ওরা যা ই পায় সেটা নিয়ে খেলতে পছন্দ করে, এমন কি সেটা খাবার হলেও। হয়ত দেখবেন খাবার দেয়ার পর সে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পুরো জায়গা ময়লা করে ফেলেছে। কিছুদিন এটা কষ্ট করে সহ্য করুন। এতে খাবারের প্রতি তার আগ্রহ বাড়বে। তবে লক্ষ্য রাখবেন তার খাবার টা যেন নরম, ছোট টুকরা হয়। যেন তার খেতে কষ্ট না হয় বা গলায় আটকে যাওয়ার মত কোনো খাবার না থাকে।

খাবার শেষে তার খাবারের জায়গা টা তাকে পাশে নিয়েই পরিষ্কার করুন। এতে সে বুঝতে শিখবে খাবার এর পর ময়লা ফেলে রাখা যায়না। একটু বড় হলে নিজেই আশেপাশে খাবারের ময়লা পরিষ্কার করতে শিখে যাবে।

তাকে নিজের হাতে তার মত করে খেতে দিন। সময় লাগলে বা আশেপাশে নোংরা করে ফেললেও এতে সে খাবারে আগ্রহী হবে এবং নিজের হাতে খাওয়া ও শিখে যাবে। তাকে নিজের হাতে খাওয়ার ব্যাপারে উতসাহ দিন।

বাচ্চা একটু বড় হলে তাকে চামচ দয়ে খেতে দিতে পারেন মাঝে মাঝে। এতে সে একটু বৈচিত্র্য পাবে। আপনিও সাথে একটা চামচ নিয়ে তাকে দেখিয়ে দিতে পারেন গল্পের ছলে কিভাবে চামচ দিয়ে খাবার উঠাতে হয়।

বাচ্চার খাবার দেয়ার সময় পারলে তাকে বিভিন্ন সুন্দর কালার বা শেপ এর প্লেট বা বাটিতে তাকে খাবার দিন। এতে সে খাবারে আগ্রহী হবে। বাজারে বাচ্চাদের জন্য অনেক সুন্দর প্লেট, বাটি, চামচ পাওয়া যায়।

রান্নার সময় পারলে তাকে কিছুক্ষণ পাশে রাখুন। তার জন্য কি রান্না হচ্ছে সেটা নিয়ে গল্প করুন। কিভাবে রান্না করছেন সেটাও তাকে বলতে পারেন। এতে সে খেতে আগ্রহী হবে।

মাঝে মাঝে একটু ভিন্ন স্বাদের খাবার দিন। যাতে একই রকম খাবারে সে একঘেয়ে না হয়ে যায়।

খাবার শেষে তাকে ধন্যবাদ দিন, তার প্রশংসা করুন যে সে সুন্দর করে খাবার খেয়েছে। এতে সে খুশি হবে।

খাবার এর সময় তাকে একটা কাপে করে বুকের দুধ বা ফর্মুলা যেটাই দিন না কেন দিতে পারেন। এতে তার বোতল এ খাবার অভ্যাস আস্তে আস্তে কমবে। ৯ মাস বয়স থেকে সাধারণত বাচ্চারা কাপ থেকে খেতে শিখে যায়।

বাচ্চার খাওয়া হয়ে গেলে সে যদি আর খেতে না চায় বা কান্না করে তাকে জোর করে খাওয়াবেন না। যদি তার ওজন ঠিক থাকে বয়স অনুযায়ী তাহলে সে যতটুকু খেতে চায় ততটুকু দিন। জোর করলে সে খাবারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে।

বাচ্চার জন্য তার পছন্দের ডেজার্ট বানিয়ে রাখতে পারেন। সে খাওয়া শেষে তাকে একটু ডেজার্ট দিতে পারেন।

বাচ্চা কে খাওয়ানো আসলেই সহজ কোনো কাজ নয়। তাই ধৈর্য ধরে তাকে এই প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত করতে হবে। একটু হয়ত সময় লাগবে। তাকে সেই সময় দিন। আর তার উচ্চতা অনুযায়ী ওজন ঠিক থাকলে চিন্তা করবেন না। নিয়মিত চেষ্টা করলেই আস্তে আস্তে সে সুন্দর একটা রুটিন এ চলে আসবে।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *