বাচ্চা কাচ্চা ও স্মাটফোন বা ডিভাইস আসক্তি!

মোবাইল বা ট্যাবে কিছু দেখতে না দিলে বাচ্চা খেতে চায় না বা কান্নাকাটি শুরু করে এই অভিযোগ অনেক বাবা-মা এর। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি ২ জনের মাঝে ১ জন বাচ্চা মোবাইলে আসক্ত। এটা উন্নত বিশ্বের গবেষণা। আমাদের দেশে কেমন ওটা আমার জানা নেই। তবে আমি নিজে ইদানিং খুব কম বাচ্চাই দেখি যাদেরকে বাবা-মা মোবাইল ধরিয়ে দেয় না খাওয়ানোর সময়।

এই সমস্যাটা শুধু যে বাচ্চাদের তা নয়। আমাদের বয়স্করাও একই সমস্যায় পড়ে গেছি। দিনের অনেকটা সময়ই আমাদের মোবাইল বা কম্পিউটারের সামনে কাটে। কিন্তু আমরা যেহেতু বড় হয়ে গেছি সেহেতু আপাতত চিন্তাটা আমরা শিশুদের নিয়েই করি।

সমস্যা: বাচ্চা মোবাইল ছাড়া খেতে চায় না, মোবাইল না দিলে শান্ত থাকে না।

করণীয়ঃ

১. আপনার বাচ্চা যদি এখনও একদম ছোট মানে ১২ মাসের কম হয় তার মানে হচ্ছে বাচ্চার এখনও আসক্তি জন্মায় নি। বাচ্চারা কোন কিছু কিভাবে শেখে তা আপনার জানা প্রয়োজন। বাচ্চারা শুধু দেখে এবং শুনে শেখে। বাচ্চারা সবকিছু অনুসরণ করতে পছন্দ করে। আপনি হয়ত মনে করতে পারেন যে বাচ্চারা কিছু বুঝতে পারছে না। কথাটি সত্য। ওরে বুঝছেনা আপনি কি করছেন। কিন্তু ওরা আপনি যা করেন তাই করাটা ঠিক বলে ধরে নিচ্ছে। আপনি যদি ওদের কোলে নিয়ে বা পাশে বসে বসে মোবাইল ব্যবহার করেন, ওরা ধরে নিবে এটা করাটাই ঠিক কাজ। এরপর আপনি যদি ওরা বুঝার পরে না দিতে চান তখন ওদের ওটা পছন্দ হবে না। কেননা ওরা এতদিন ধরে যা দেখে আসছে আপনি তার উল্টো আচরণ করছেন ওদের সাথে। তাই বাচ্চার সাথে যখন থাকবেন তখন বাচ্চার প্রতি মনোযোগ দিন। বই পড়তে পারেন চাইলে। এটি বাচ্চার মাঝের পড়ার আগ্রহ তৈরি করবে। এটা করণীয় কিন্তু বাচ্চা জন্মের পর থেকেই।

বাচ্চা যদি একটু বড় হয়ে যায় তখন কি করবেন? এর জন্য আমাদের ব্রেইন কিভাবে কাজ করে তা বোঝা দরকার। আমাদের ব্রেইন পুরষ্কার এবং তিরষ্কারের উপর নির্ভর করে কাজ করে। এইজন্যই দেখবে বাচ্চারা মিথ্যে বলা শুরু করে তিরষ্কারের ভয়ে। যদি কোন বাচ্চা কোন ভুল করার পরেও তিরষ্কার না করে বা মার না দেন তাহলে ওরা সাধারণত মিথ্য বলে না। এটি অন্য আলোচনা। মোবাইল বা ট্যাব ব্যবহারে ব্রেইনের এই বিষয়টা আপনারা চমৎকারভাবে ব্যবহার করতে পারেন। যেমন ধরুন, বাবুকে খাওয়ার পরে, বা কিছুক্ষণ বই দেখা বা কিছু শেখানোর পরে ১৫ মিনিট মোবাইলে বাচ্চাদের কিছু দেখতে দিন। যদি কোনদিন খুব সুন্দর করে খায় বা পড়ে তাহলে সময় একটু বাড়িয়ে দিন। দেখবেন বাচ্চা ঠিকমত খাবে কিংবা পড়বে। কেননা সে জানে এটাই তার পুরষ্কার পাওয়ার উপায়। তবে কখনই তাকে যখন তখন পুরষ্কার দিবেন না। চেষ্টা করবেন দিনে একই সময়ে দিতে। তাহলে সে বিষয়টা ভালো করে বুঝতে শিখবে।

এখন বাবু যদি অনেকটুকুই বড় হয়ে যায় এবং অলরেডি আসক্ত হয়ে পড়ে তখন? তখন বিষয়টা কঠিন একটু। কিন্তু অসম্ভব নয়। প্রথমেই যেটি করতে হবে তা হচ্ছে তার সময় নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। টানা বেশিক্ষণ দেয়া যাবে না। টানা বেশিক্ষণ ব্যবহার করা চোখ, শরীর, এবং মন সবকিছুর জন্যই খারাপ। ১৫-২০ মিনিট সময়ের মাঝে নিয়ে আসুন প্রতিবার ব্যবহারের সময়। এরপর ধীরে ধীরে চেষ্টা করুন মোবাইল ব্যবহারের সময়টা অন্য কাজে তাকে ব্যস্ত রাখতে। যেমন বাইরে নিয়ে যান ওই সময়টা, তার সাথে নতুন কোন খেলনা দিয়ে খেলুন ইত্যাদি।

উপরের বিষয়গুলো অনেকটাই পরীক্ষিত বিভিন্ন গবেষক এবং মনোবিজ্ঞানী দ্বারা। আপনারাও চেষ্টা করে দেখুন। মনে রাখবেন বাচ্চা বড় হয়ে কেমন মানুষ হবে, তা নির্ধারণ করে তার আশেপাশের মানুষ এবং পরিবেশ। বড় হয়ে বাচ্চা খারপা হয়ে গেছে এটা বলার আগে ভাবুন আপনার কারণে সে খারাপ হয়ে যায় নি তো?

শুভকামনা সব মা-বাবা এবং শিশুদের জন্য।

olebabu

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *