বাচ্চার মানসিক বিকাশ

বাচ্চাদের খাওয়া এবং ঘুম নিয়ে আমরা যতটা সচেতন থাকি, অনেক সময় ঠিক তার উল্টোটা থাকি বাচ্চার চিন্তা ও মানসিক বিকাশ নিয়ে। অনেকেই আবার ভেবে থাকেন যে বাচ্চার মানসিক বা বুদ্ধিমত্তার বিকাশের বিষয়টা বাচ্চা যখন কথা বলতে শিখবে তার পরে দেখা যাবে। কিন্তু বাস্তবতা আসলে এমন নয়।

গবেষনায় দেখা গেছে যে, বাচ্চারা খুব অল্প সময়েই শেখা শুরু করে। এমনকি ওরা যখন ২-৩ মাস তখনই ওরা এটা-ওটা চিনতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, জন্মের কিছুদিন পরেই দেখবেন ওরা কোন গানের সুর কিংবা কোন ছড়া চিনে ফেলেছে। সেই একই গান কিংবা ছড়া শুনলে চুপচাপ শুনতে থাকে। আবার দেখবেন যে বাচ্চা কান্নার সময় আপনি যদি নতুন কোন কিছু করেন যেমন নিজেও কেঁদে উঠেন কিংবা হঠাৎ করে শব্দ করে হাসেন বা কিছু বলেন তখন বাচ্চা কান্না থামিয়ে দেয় কিছুক্ষণের জন্য। বাচ্চারা তার অবাক মন দিয়ে ভাবে এই জিনিসটার মানে কি! কিছুক্ষণের জন্য ভুলে যায় সে নিজে যে কান্না করছিলো। এইসবই প্রমাণ করে যে আপনার বাচ্চা আগ্রহ নিয়ে আছে নতুন কিছু শেখার জন্য।

অতএব বাচ্চার মানসিক বিকাশ নিয়ে সচেতন হউন। বাচ্চার মানসিক বিকাশের জন্য কিছু সহজ কিন্তু ভালো পন্থা আছে।

১. বাচ্চাকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে গল্প পড়ে শোনান। গল্প আপনি কোলে নিয়ে হেটে কিংবা শুইয়েও শোনাতে পারেন। তবে বাচ্চার বয়স কয়েক মাস হলে তখন বই দেখে পড়ে শোনালে ভালো হবে। বাচ্চাদের শোনার সাথে সাথে বই এর প্রতি আগ্রহ জন্মে যায় এটা করলে।

২. প্রতিদিন কিছুক্ষণের জন্য বাচ্চাকে একা নিজের মত থাকতে দিন। এটি তার ব্যক্তিত্ব বিকাশে খুবই সহায়ক। এটি তাকে নিজের মত করে এটা ওটা চিন্তা করতে সহায়তা করে।

৩. বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বা বাচ্চার সাথে কথা বলুন। কোলে নিয়ে যখন এক রুম থেকে আর এক রুমে যাচ্ছেন তখন তাকেও বলুন যে দরজা খুললেন এখন। জামা পড়ানোর সময় বলতে পারেন, এটা জামা। এইসব কিছু আপাত যদিও মনে হয় বাচ্চা খেয়ালই করছে না কিন্তু আসলে বাচ্চা সব কানে শুনে রাখে এবং মনে রাখতে থাকে। মনে রাখবেন বাচ্চারা সাদা কাগজের মত। যাই-ই শুনে কিংবা দেখে তা লিখে ফেলে। যদিও পরে হয়ত একসময় ভুলে যায়।

৪. বাচ্চাকে নিয়ে ঘরে বসে থাকবেন না। ৬ সপ্তাহ পরেই বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে বের হতে পারেন। তবে খুব বেশি মানুষজন আছে এমন জায়গায় না যাওয়াই ভালো। বাচ্চারা সহজেই রোগাক্রান্ত হয়ে পড়তে পারে অন্য রোগাক্রান্ত মানুষের সংষ্পর্শে এলে। খোলা জায়গায় গিয়ে কিছুক্ষণ হেটে আসুন। এটা বাচ্চার সাথে সাথে আপনার মনও ভালো রাখবে।

৫. সবশেষে পরিবারের মাঝে ভালোবাসা বজায় রাখুন এবং বাচ্চাকে সেই ভালোবাসা বুঝতে দিন। বাচ্চা যত ভালোবাসার মাঝে বড় হবে ততই সে ভালো মনের অধিকারী হবে। মনে রাখবেন ভালোবাসা কখনও বাচ্চাকে নষ্ট করে না। বরং বকা কিংবা মার দেয়াই বাচ্চাকে নষ্টের দিকে নিয়ে যায়। বাচ্চা একটু বড় হলেই তাকে ধন্যবাদ দিন তার কোন কাজের জন্য। তার প্রশংসা করুন। তাকে বুঝতে দিন তাকে আপনারা ভালোবাসেন

olebabu

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *