বাচ্চাকে গোসল করানো!

নবজাতক বাচ্চা কিংবা ছোট বাচ্চাকে নিয়ে চিন্তার কোন শেষ নেই পরিবারের। অনেকগুলোর চিন্তার মাঝে একটি হচ্ছে গোসল করানো নিয়ে। বাচ্চাকে কিভাবে গোসল করাবো, কতবার করাবো ইত্যাদি অনেক প্রশ্ন নিয়েই দ্বিধায় থাকেন বাবা-মা। এই পোস্টটিতে এই বিষয়গুলো নিয়ে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করবো আমরা।

 গোসল কবে থেকে শুরু করবেন?

বাচ্চাকে গোসল সাধারণত ২ সপ্তাহ বা ১৪ দিন পরে করানোর পরামর্শ দেয়া হয়। তবে ১৪ দিন যথেষ্ট নয়। বাচ্চার নাড়ি শুকিয়ে পড়ে যাওয়ার পরেই গোসল দিতে হবে। সাধারণ ১৪ দিনের আগেই শুকিয়ে পড়ে যায়। এছাড়াও যদি বাচ্চার খতনা করা হয় তাহলে সেইক্ষেত্রে সেটিও শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

মোদ্ধা কথা বাচ্চার নাড়ি বা নাভি এবং খতনার জায়গা শুকিয়ে যাওয়ার পরেই গোসল দিতে পারবেন।

গোসল কতবার করাবেন?

অনেকই মনে করে বেশি বেশি গোসল করানো ভালো। কিন্তু এটি ঠিক নয়। বাচ্চাদের শরীরে একটু তেলতেলে ভাব থাকে যেটি নানান জিনিস থেকে বাচ্চার ত্বক রক্ষা করে। বেশি গোসল বা শরীর মুছে দিলে এটি থাকে না। সপ্তাহে তাই ২-৩ বারের বেশি গোসল করানো উচিত নয়। ২ বার গোসল এবং ২ বার শরীর মুছে দেয়া উত্তর ৬ মাস পর্যন্ত। তবে যদি গরমকাল হয় এবং খুব ঘামায় তাহলে প্রতিদিনই শরীর মুছে দিতে পারেন এবং ৩ বার গোসল করাতে পারেন সপ্তাহে।

৬ষ্ঠ মাসের পরে ৩-৪ বার গোসল এবং নিয়মিত শরীর মুছে দিতে পারেন।

 গোসল কিভাবে করাবেন?

১. বাচ্চার যাতে কোন ভাবেই ঠান্ডা না লাগে তা লক্ষ্য রাখতে হবে। এইজন্যই শুরুতেই খেয়াল রাখতে হবে রুমে যাতে ঠান্ডা না থাকে গোসলের আগে পরে। দরকার হলে রোদ উঠার পরে গোসল দিন। শীতকাল হলে দরজা জানালা ভালো করে বন্ধ করে, ফ্যান অফ করে রুম গরম করার চেষ্টা করুন আগে।

২. পানি কুসুম গরম করে নিন। দুইটা পাত্রে পানি নিতে পারেন। একটি বাচ্চাদের শ্যাম্পু বা সাবান দেয়ার জন্য ব্যবহার করুন। অন্যটি পরিষ্কার করার জন্য এরপরে।

৩. প্রথমেই বাচ্চার মাথা ধুয়ে নিন। এরপর শুকনো কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছে ফেলুন দ্রুত। মাথা যাতে কোনভাবেই ভেজা না থাকে।

৪. এরপর মাথায় টুপি বা কিছু পরিয়ে দিয়ে শরীরে পানি দেয়া শুরু করতে পারেন। তবে গোসল দ্রুতই দেয়া প্রয়োজন। নয়ত ঠান্ডা লেগে যাবে।

৫. গোসল শেষ হলেই দ্রুত শরীর মুছে শুকনো কপড় পরিয়ে দিন পর্যাপ্ত পরিমানে।

৬. বাচ্চাকে খুব বেশি ঘষবেন না। বাচ্চারা নাজুক থাকে। যতটা সম্ভব আলতো করে গোসল করিয়ে দিন।

৭. শরীরের বিশেষ অঙ্গ যেমন চোখ, কান এসব থেকে দূরে থাকুন।

৮. বাচ্চা কিছু বড় হওয়ার পরে যেমন ১.৫ মাস থেকে ২ মাস হলে চাই বুক থেকে নিচের অংশ পানিতে কিছুক্ষণ চুবিয়ে রেখে মুছে দিতে পারেন কাপড় দিয়ে। বাচ্চারা পানি খুব পছন্দ করে। তবে মাথা যাতে শুকনো এবং পানির উপরে থাকে না খেয়াল রাখুন।

৯. গোসলের আগে এবং পরে তেল বা লোশন মেখে দিতে পারেন বাবুর শরীরে। তাহলে ত্বক ভালো থাকবে এবং খসখসে হয়ে যাবে না বা ফেটে যাবে না।

বাচ্চার শরীর মুছে দেয়া

১. বাচ্চার শরীর মুছে দেয়ার জন্য একটি পাত্রে কুসুম গরম পানি নিয়ে নিন।
২. পরিষ্কার একটি কাপড় পানিতে নিয়ে তা চিপে পানি নিংড়ে এরপর মাথা মুছে দিন। মাথা শুকনো তোয়ালে দিয়ে মুছে দিন।
৩. এরপর ধীরে ধীরে শরীরের অন্য অংশ মুছে দিন।

olebabu

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *